সংবিধান সংশোধনে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নির্ধারণের প্রস্তাব

খলিলুর রহমান রানা
খলিলুর রহমান রানা Reporter প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬২০২৬, ১:৫০ AM ৭৯ বার পড়া হয়েছে
সংবিধান সংশোধনে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নির্ধারণের প্রস্তাব
ছবি : সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

পল্লী টিবি ডেস্কঃ

সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, উচ্চকক্ষের গঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির কিছু বিষয় মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠকে এসব বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। 

Advertisement
Advertisement

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বৈঠকটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ, গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানগর্ভ ছিল। শিক্ষাবিদরা সংবিধানের বিভিন্ন অংশে কী কী বিষয় প্রতিফলিত হওয়া দরকার তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, অথচ জাতির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজন; এমন বিষয় নিয়েও তারা মতামত দিয়েছেন। সংবিধান সংশোধনের বর্তমান বিধান, ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নমনীয়তা ও স্থিতিশীলতার ভারসাম্য এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাইরে বিকল্প কোনো পদ্ধতি রাখা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

Advertisement
Advertisement

সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিধান নিয়েও মতামত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের এখতিয়ার কী হবে, তা সাংবিধানিকভাবে নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কমিটির সভাপতি বলেন, রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ যাতে অন্য অঙ্গের ওপর খবরদারি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। 

একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বজায় রেখে তার এখতিয়ারও স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে সংবিধানের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা উপেক্ষিত না হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও এর গঠনপ্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অনেকে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে বৈঠকে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়নি।

Advertisement
Advertisement

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিকল্পগুলোর মধ্যে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বাদ দেওয়ার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় ঐকমত্য হয়েছিল বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।  তিনি বলেন, আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচকদের মতামত পাওয়া গেছে। সংবিধানে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। উচ্চকক্ষে কোন কোন শ্রেণি বা এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকবে, প্রতিনিধিরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, জেলাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা যায় কি না; এসব বিষয়ে মতামত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দেশ। এ ব্যবস্থার মধ্যে উচ্চকক্ষের মতো কাঠামোয় কীভাবে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচকরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত লিখিত আকারেও পাওয়া যাবে। পরে সেগুলো পর্যালোচনা করে কমিটিতে আলোচনা করা হবে।

Advertisement
Advertisement

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির কিছু বিষয় রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে জনগণের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রস্তাবও এসেছে।

আরও পড়ুন: ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান যুক্তরাজ্যের দুই আইনজীবী

ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান যুক্তরাজ্যের দুই আইনজীবী

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন হয়েছে ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা করে। ওই কমিশনের সহ-সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আমরা তো সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্যই কাজ করছি। বিরোধী দলের নেতাদের কমিটিতে নাম দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। তারা এখনও নাম দেননি। যখনই দেবেন, তাদের স্বাগত জানানো হবে। 

Advertisement
Advertisement

তিনি বলেন, কমিটির প্রতিটি বৈঠক এবং জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাই মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার। আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। আমরা চাই, তারা আলোচনায় আসুক। তবে বিরোধী দল না এলেও সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। এটা জাতির প্রত্যাশা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা আমাদের অঙ্গীকার। 

বিরোধী দল লিখিত মতামত দিতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটির প্রতিবেদন প্রণয়নের পর সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উত্থাপিত হলে বিরোধী দল তাতে অংশ নেবে বলে তারা আশা করেন। 

Advertisement
Advertisement

জুলাই জাতীয় সনদে সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার ও জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ও সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নিতে হবে।

বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অংশ না নিলে এ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিতর্ক করার একটা সুযোগ থাকবে। আমরা সব সময় আহ্বান জানাব, বিরোধী দল যেন আমাদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের মতামত দেয়। এই প্রতিবেদন প্রণয়নের পর সংবিধান সংশোধনের বিল যখন সংসদে আসবে, তখন তারা অংশগ্রহণ করবে বলে আমরা আশা করি। তারা যদি তাদের ভূমিকাটা সঠিকভাবে পালন না করে, সেটা জাতি দেখবে। তবে আমরা আমাদের অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব।

Advertisement
Advertisement

অন্যদিকে আগামী ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দিনব্যাপী আলোচনার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত সময়ে তাদের বক্তব্য পুরোপুরি শোনা ও রেকর্ড করা কঠিন। এ কারণে দিনব্যাপী আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কে এইচ লুৎফুল এলাহী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম ও অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মো. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক মোহাম্মদ একরামুল হক এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেসার ইউ আহমেদ।

Advertisement
Advertisement

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেলও অংশগ্রহণ করেন।

ট্যাগ:

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর

খলিলুর রহমান রানা
খলিলুর রহমান রানা Reporter প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬২০২৬, ১২:৩৫ AM ৩৪ বার পড়া হয়েছে
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর
সংগৃহীত ছবি
Advertisement
Advertisement

পল্লী টিভি ডেক্সঃ

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিজেদের ফলাফল জানতে পারবেন।

Advertisement
Advertisement

শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ২৯ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে, ২৬ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন: বড়ি কান্দি মেম্বার প্রার্থী হাবিব ডাক্তারের জনপ্রিয়তার জোয়ার, জয়ের স্বপ্ন এলাকাবাসীর

বড়ি কান্দি মেম্বার প্রার্থী হাবিব ডাক্তারের জনপ্রিয়তার জোয়ার, জয়ের স্বপ্ন এলাকাবাসীর

এর আগে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো। পরে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। চলতি বছর দেশের সব শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন। তবে পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Advertisement

পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নতুন সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও শেষ হয়।

Advertisement
Advertisement
ট্যাগ:

বড়ি কান্দি মেম্বার প্রার্থী হাবিব ডাক্তারের জনপ্রিয়তার জোয়ার, জয়ের স্বপ্ন এলাকাবাসীর

খলিলুর রহমান রানা
খলিলুর রহমান রানা Reporter প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬২০২৬, ২:০১ PM ৯৮ বার পড়া হয়েছে
বড়ি কান্দি মেম্বার প্রার্থী হাবিব ডাক্তারের জনপ্রিয়তার জোয়ার, জয়ের স্বপ্ন এলাকাবাসীর
ছবি: মেম্বার পদপ্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ডাক্তার,পল্লী টিভি,
Advertisement
Advertisement

​খলিলুর রহমান রানা, পল্লী টিভি:

​আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বরিকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ে বইছে নির্বাচনি আমেজ। পাড়া-মহল্লা থেকে চায়ের দোকান—সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা। তবে সচেতন ভোটার ও সাধারণ মানুষের মুখে যে নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন সমাজসেবক ও জনদরদী মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব (হাবিব ডাক্তার)। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই মানবিক কর্মকাণ্ড ও দূরদর্শী ভাবমূর্তির কারণে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন।

Advertisement
Advertisement

​সরজমিনে ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম ও লোকালয় ঘুরে দেখা গেছে, পদ-পদবির মোহ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা হাবিব ডাক্তারকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন আশা। গণসংযোগকালে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফুটে উঠছে তাঁর অতীতের নানা জনকল্যাণমূলক কাজের ফিরিস্তি। ​যাতায়াত ও অবকাঠামো উন্নয়নে অনন্য অবদান
​একসময় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যেত এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে হাবিব ডাক্তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করে দেন।

​তাঁর অর্থায়নে বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য কাজগুলো:

Advertisement
Advertisement

​তালতলার মোড় থেকে মাগুন সরকারের বাড়ির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ। ​বড় বাড়ির মসজিদ থেকে কেরানি বাড়ির কবির মিয়ার দোকান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার। ​আক্তার মিয়ার দোকান থেকে মতি মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন।
​আবু তাহেরের দোকান থেকে থোল্লাকান্দি প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ।​থোল্লাকান্দি ঈদগাহ থেকে কবরস্থান পর্যন্ত চলাচলের রাস্তা পাকার ব্যবস্থা।
​এছাড়াও বর্ষাকালে জলজট নিরসন ও পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তিনি মোহন ডাক্তারের বাড়ি থেকে মোমিন ব্যাপারির বাড়ি পর্যন্ত ড্রেনে নিজ অর্থায়নে সুপরিসর স্লাব বসিয়ে দেন।
​পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে বিশেষ উদ্যোগ
​শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণেই থেমে থাকেননি হাবিব ডাক্তার; জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশবান্ধব এলাকা গঠনেও তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন। নিজ উদ্যোগে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা এবং জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ সরাতে তিনি লোকবল নিয়ে নিজে মাঠে থাকেন। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডটি আজ একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক আবাসে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: রায়পুরায় পারিবারিক কলহে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিিযোগ।

রায়পুরায় পারিবারিক কলহে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিিযোগ।

​শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে উদার সহযোগিতা

Advertisement
Advertisement

​এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে হাবিব ডাক্তার দীর্ঘদিন ধরে সাধ্যমতো আর্থিক ও নির্মাণসামগ্রী প্রদান করে আসছেন। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর সহযোগিতা সর্বজনবিদিত।

​এলাকাবাসীর প্রত্যাশা

Advertisement
Advertisement

​৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “হাবিব ডাক্তার শুধু নির্বাচনের প্রার্থী নন, তিনি আমাদের বিপদে-আপদে আস্থার মূল আশ্রয়স্থল।” সচেতন জনগণের একদাবি—একটি আধুনিক, মাদক মুক্ত ও মডেল ওয়ার্ড গড়ার লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনে জনদরদী মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব (হাবিব ডাক্তার)-কে বিপুল ভোটে বিজয়ী করা।

ট্যাগ:

সাম্প্রদায়িক রায়পুরা গড়ার অঙ্গীকার: পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা ও শুভেচ্ছা নিয়ে হাজির মেয়র প্রার্থী মানিক চৌধুরী

খলিলুর রহমান রানা
খলিলুর রহমান রানা Reporter প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬২০২৬, ৬:৪২ PM ৯৮ বার পড়া হয়েছে
সাম্প্রদায়িক রায়পুরা গড়ার অঙ্গীকার: পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা ও শুভেচ্ছা নিয়ে হাজির মেয়র প্রার্থী মানিক চৌধুরী
ছবিঃ পল্লি টিভি
Advertisement
Advertisement

​খলিলুর রহমান রানা, বিশেষ প্রতিনিধি:

 শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে নরসিংদীর রায়পুরা পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা নুর আহমেদ চৌধুরী মানিক। 

পরিদর্শনকালে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সাথে মণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার খোঁজখবর নেন এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। ​নুর আহমেদ চৌধুরী মানিক রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিদর্শনকালে তিনি আসন্ন রায়পুরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন এবং পৌরসভার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসা কামনা করেন। 

শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানিক চৌধুরী বলেন, ​“\'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার\'—এই চেতনাতেই আমাদের পথচলা। প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। শারদীয় দুর্গোৎসবের এই আনন্দময় মুহূর্ত আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।” 

​তিনি আরও বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপির নেতৃত্বে রায়পুরায় যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। 

​পৌরবাসীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও নিরাপদ শহর উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি যোগ করেন, “দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে নাগরিক ও প্রশাসনকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।” ​এসময় উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, কৃষক দল, শ্রমিক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিন বিভাগ সফরে প্রধানমন্ত্রী

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিন বিভাগ সফরে প্রধানমন্ত্রী

ট্যাগ: